নামজারি খতিয়ানের তথ্য
লাইভ তথ্য: DLRMS Land Portal📌 বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করুন। খতিয়ান তালিকার যেকোনো নম্বরে ডাবল ক্লিক (Double Click) করলে বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন।
- ঢাকা
- চট্টগ্রাম
- রাজশাহী
- খুলনা
- বরিশাল
- সিলেট
- রংপুর
- ময়মনসিংহ
- প্রথমে বিভাগ নির্বাচন করুন
- প্রথমে জেলা নির্বাচন করুন
- প্রথমে উপজেলা নির্বাচন করুন
- মৌজা নির্বাচন করুন
অনলাইনে নামজারি (ই-মিউটেশন) আবেদন করার সম্পূর্ণ নিয়ম ধাপে ধাপে
জমি ক্রয়, ওয়ারিশ বা দান (হেবা) সূত্রে জমির মালিকানা প্রাপ্তির পর সরকারি ভূমি রেকর্ড ও খতিয়ানে পূর্বের মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারি (Mutation) বা জমাখারিজ বলা হয়। বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে শতভাগ নামজারি কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে (ই-মিউটেশন) সম্পন্ন হয়। কোনো সরকারি অফিসে সশরীরে না গিয়ে ঘরে বসেই যেকোনো নাগরিক mutation.land.gov.bd পোর্টালে এই সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
📝 অনলাইনে নামজারি আবেদন করার ৫টি মূল ধাপ:
পোর্টালে প্রবেশ ও নাগরিক অ্যাকাউন্ট/NID ভেরিফিকেশন
ব্রাউজার থেকে mutation.land.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। আপনার সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ও জন্মতারিখ প্রদান করে 'যাচাই করুন' বাটনে ক্লিক করুন। মোবাইলে ওটিপি (OTP) কোড আসলে তা দিয়ে লগইন নিশ্চিত করুন।
আবেদনকারী ও গ্রহীতার তথ্য পূরণ
আপনি নিজে জমির ক্রেতা/মালিক হলে 'গ্রহীতা নিজে' অপশন বেছে নিন। একাধিক ক্রেতা থাকলে 'সংযোজন করুন' অপশন ব্যবহার করে প্রত্যেকের এনআইডি ও অংশ উল্লেখ করুন। প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদন করলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির তথ্য যুক্ত করতে হবে।
জমির তফসিল ও দলিলের বিস্তারিত তথ্য
সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজা নির্বাচন করুন। এরপর সাফ-কবলা/হেবা দলিলের নম্বর, রেজিস্ট্রি অফিসের নাম, দলিলের তারিখ, জমির শ্রেণি এবং খতিয়ান ও দাগ নম্বর নির্ভুলভাবে এন্ট্রি করুন।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড
মূল রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, পূর্ববর্তী ভায়া দলিল, সর্বশেষ রেকর্ডিয় খতিয়ান (CS/SA/RS/BS), হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের দাখিলা এবং এনআইডির রঙিন স্ক্যান কপি আপলোড করুন। (ফাইল সাইজ প্রতিটির জন্য সর্বোচ্চ ২৫MB হতে পারে, তবে স্পষ্ট হওয়া আবশ্যক)।
প্রাথমিক আবেদন ফি (৭০ টাকা) পরিশোধ ও রসিদ সংরক্ষণ
আবেদন সাবমিট করে তাৎক্ষণিকভাবে কোর্ট ফি ২০ টাকা এবং নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা—মোট ৭০ টাকা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের (বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক কার্ড) মাধ্যমে পরিশোধ করুন। সাথে সাথে আপনার মোবাইলে একটি আবেদন নম্বর (Application ID) এসএমএস আকারে চলে আসবে।
নামজারি সরকারি ফি সর্বমোট ১,১৭০ টাকার খাতওয়ারি বিস্তারিত গাইড ২০২৬
ভূমি মন্ত্রণালয়ের গেজেট ও নাগরিক সেবার নীতিমালা অনুযায়ী ই-নামজারির (e-Mutation) জন্য সর্বমোট সরকারি ফি নির্ধারিত ১,১৭০ টাকা। কোনো অবস্থাতেই এর অতিরিক্ত একটি পয়সাও আইনত প্রদেয় নয়। প্রতিটি খাতের সুনির্দিষ্ট বিভাজন নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ফি-এর বিবরণ | টাকার পরিমাণ | কখন পরিশোধ করতে হয় | পরিশোধের মাধ্যম |
|---|---|---|---|
| ১. আবেদন কোর্ট ফি | ২০ টাকা | অনলাইন আবেদন দাখিলের সময় | বিকাশ/নগদ/রকেট/কার্ড |
| ২. নোটিশ জারি ফি | ৫০ টাকা | অনলাইন আবেদন দাখিলের সময় | বিকাশ/নগদ/রকেট/কার্ড |
| ৩. রেকর্ড সংশোধন বা হালনাগাদ ফি | ১,০০০ টাকা | নামজারি আবেদন অনুমোদনের পর (DCR কাটার সময়) | বিকাশ/নগদ/রকেট/কার্ড |
| ৪. খতিয়ান সরবরাহ ফি (ডিজিটাল কপি) | ১০০ টাকা | রেকর্ড সংশোধনের সাথে এককালীন | বিকাশ/নগদ/রকেট/কার্ড |
| সর্বমোট সরকারি ফি | ১,১৭০ টাকা | দুই ধাপে মোট খরচ (৭০ + ১,১০০) | অনলাইন গেটওয়ে |
⚠️ নাগরিক সতর্কতা: নামজারি বাবদ নির্ধারিত ১,১৭০ টাকার বাইরে কোনো সার্ভেয়ার, তহশিলদার বা তৃতীয় কোনো মধ্যস্বত্বভোগী/দালালকে অতিরিক্ত কোনো নগদ অর্থ প্রদান করবেন না। সমস্ত সরকারি ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে অনলাইনে জমা হয়।
নামজারি আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ও ৫টি কার্যপদ্ধতি
সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী একটি নিয়মিত নামজারি আবেদন নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়সীমা সর্বোচ্চ ২৮ কার্যদিবস (মহানগর বা জটিল মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন)। আবেদন সাবমিট করার পর বিভিন্ন ধাপে ফাইলটি যেভাবে প্রক্রিয়াধীন থাকে:
- তহশিল রিপোর্ট: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব/তহশিলদার) সরেজমিনে জমির দখল ও রেকর্ড যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠান।
- সার্ভেয়ার ও কানুনগো যাচাই: সীমানা বা নকশা সংক্রান্ত তথ্যাদি কানুনগো ও সার্ভেয়ার দ্বারা নিরীক্ষিত হয়।
- শুনানি (Hearing): প্রয়োজনবোধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পক্ষগণকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ দেন।
- অনুমোদন ও ডিসিআর ফি: এসিল্যান্ড আদেশ অনুমোদন করলে আবেদনকারীকে মোবাইলে ১,১০০ টাকা DCR ফি পরিশোধের এসএমএস দেওয়া হয়।
- ডিজিটাল খতিয়ান ডাউনলোড: ফি পরিশোধের সাথে সাথে কিউআর কোডযুক্ত নতুন নামজারি খতিয়ান অনলাইন থেকে তাৎক্ষণিক ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যায়।
আপনার জমা দেওয়া আবেদনের বর্তমান অগ্রগতি ও টেবিল অনলাইনে লাইভ ট্র্যাক করার নিয়ম দেখতে ভিজিট করুন আমাদের নামজারি স্ট্যাটাস ও ট্র্যাকিং গাইড ➔
নামজারি সংক্রান্ত বিশেষায়িত গাইড ও টুলসমূহ
ক্রয়, ওয়ারিশ, হেবা বা আদালতের ডিক্রি সূত্রে আবেদন করার পূর্বে কোন কোন কাগজপত্র লাগবে তা মিলিয়ে নেওয়ার ইন্টারঅ্যাকটিভ চেকলিস্ট।
পৈতৃক বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির নামজারি করার সম্পূর্ণ নিয়ম, ওয়ারিশান সনদ, বণ্টননামা ও সহ-ওয়ারিশদের হিস্যা নির্ধারণ গাইড।
অনলাইনে আবেদন করার পর ফাইল কোন টেবিলে আছে, শুনানির তারিখ কবে ও কীভাবে ট্র্যাকিং করবেন তার ধাপে ধাপে নির্দেশনা।
এসিল্যান্ড আবেদন না-মঞ্জুর বা খারিজ করলে এডিসি (রেভিনিউ) বরাবর আপিল ও মিসকেস দায়ের করার আইনি সময়সীমা ও নিয়ম।
ই-নামজারি ও মিউটেশন সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১। ই-নামজারি করতে সরকারি ফি মোট কত টাকা?
ই-নামজারির মোট সরকারি ফি নির্ধারিত ১,১৭০ টাকা। এর মধ্যে আবেদন কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন ফি ১,০০০ টাকা এবং খতিয়ান ফি ১০০ টাকা অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরে কোনো দালাল বা তহশিলদারকে অতিরিক্ত ফি প্রদান করবেন না।
২। নামজারি আবেদন নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়সীমা কত দিন?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী একটি নিয়মিত নামজারি আবেদন নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা ২৮ কার্যদিবস। তবে মহানগর এলাকা বা জটিল বিরোধপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে।
৩। ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমির নামজারি করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
ওয়ারিশ সূত্রে নামজারি করতে মূল খতিয়ান/পর্চা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশান সনদ, পারিবারিকভাবে আপস-বণ্টননামা দলিল বা বণ্টন সংক্রান্ত সম্মতিপত্র এবং হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন করের (খাজনা) দাখিলা প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের ওয়ারিশ সূত্রে নামজারি গাইড।
৪। এসিল্যান্ড কর্তৃক নামজারি আবেদন না-মঞ্জুর বা খারিজ হলে করণীয় কী?
আবেদন খারিজ বা না-মঞ্জুর হলে আদেশের কপি সংগ্রহ করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বা এডিসি রেভিনিউ বরাবর আপিল অথবা রিভিউ মিসকেস দায়ের করা যায়। বিস্তারিত নিয়ম দেখুন আমাদের নামজারি বাতিল হলে আপিল নির্দেশিকা।
৫। অনলাইনে প্রস্তুতকৃত ডিজিটাল নামজারি খতিয়ান কীভাবে যাচাই করা যায়?
ডিজিটাল নামজারি খতিয়ানের উপরে মুদ্রিত কিউআর (QR) কোডটি যেকোনো স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলেই ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডাটাবেজ থেকে খতিয়ানের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়।