অনলাইন জমি পরিমাপ ও রূপান্তর ক্যালকুলেটর
জমির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ফুটে লিখুন। ক্যালকুলেটরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমির মোট বর্গফুট, শতাংশ, কাঠা, বিঘা, একর এবং ছটাক নির্ণয় করবে। কাঠার মান আপনার এলাকার প্রচলিত মান অনুসারে পরিবর্তন করতে পারবেন (যেমন: ৭২০ বা ৭২১.৪৬)।
দলিল বনাম খতিয়ান গরমিল তুলনামূলক ক্যালকুলেটর
আপনার দলিলের জমির পরিমাণ এবং খতিয়ানে উল্লেখিত জমির পরিমাণের মধ্যে কোনো পার্থক্য বা অমিল আছে কিনা তা তাৎক্ষণিক মিলিয়ে নিন:
বিজ্ঞানসম্মত জমি পরিমাপের নিয়ম ও সূত্রের ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে জমি পরিমাপে আমিন বা সার্ভেয়াররা সাধারণত গান্টার চেইন (শিকল), ফিতা কিংবা আধুনিক টোটাল স্টেশন ও জিপিএস ব্যবহার করেন। যেকোনো আয়তাকার সমকোণী জমির ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের মৌলিক বৈজ্ঞানিক সূত্র হলো দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থের গুণফল। এই গুণফল থেকে মোট বর্গফুট বের করে তাকে বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় এককে রূপান্তর করা হয়।
• মোট ক্ষেত্রফল (বর্গফুট) =
দৈর্ঘ্য (ফুট) × প্রস্থ (ফুট)• শতাংশ (শতক) =
মোট বর্গফুট ÷ ৪৩৫.৬• কাঠা =
মোট বর্গফুট ÷ ৭২০ (বা শতাংশ × ০.৬০৫)• ছটাক =
মোট বর্গফুট ÷ ৪৫ (বা কাঠা × ১৬)• বিঘা =
কাঠা ÷ ২০ (বা মোট বর্গফুট ÷ ১৪,৪০০)• একর =
শতাংশ ÷ ১০০ (বা মোট বর্গফুট ÷ ৪৩,৫৬০)
বাংলাদেশে জমি পরিমাপের প্রামাণ্য একক ও রূপান্তর টেবিল
| একক | বর্গফুটে রূপান্তর | অন্যান্য এককের সমতুল্য | ব্যবহারের ক্ষেত্র |
|---|---|---|---|
| ১ শতাংশ (ডেসিমেল) | ৪৩৫.৬ বর্গফুট | ১০০০ বর্গ লিংক / ০.৬০৫ কাঠা | সরকারি খতিয়ান, পরচা ও নামজারি |
| ১ কাঠা (স্ট্যান্ডার্ড) | ৭২০ বর্গফুট | ১.৬৫২৮ শতাংশ / ১৬ ছটাক | শহর ও আবাসিক প্লট ক্রয়-বিক্রয় |
| ১ ছটাক | ৪৫ বর্গফুট | ১৬ গণ্ডা / ০.০৬২৫ কাঠা | ছোট পরিমাপ ও অংশীদারিত্ব |
| ১ বিঘা (স্ট্যান্ডার্ড) | ১৪,৪০০ বর্গফুট | ২০ কাঠা / ৩৩.০৬ শতাংশ | কৃষি জমি ও ভূমি উন্নয়ন কর |
| ১ একর | ৪৩,৫৬০ বর্গফুট | ১০০ শতাংশ / ৩ বিঘা ৮ ছটাক | মৌজা ম্যাপ ও আন্তর্জাতিক পরিমাপ |
| ১ বর্গগজ | ৯ বর্গফুট | ০.৮৩৬ বর্গমিটার | রাস্তা ও স্থাপনা নির্মাণ |
| ১ লিংক (Link) | ০.৬৬ ফুট (৭.৯২ ইঞ্চি) | ১০০০ বর্গলিংক = ১ শতক | আমিনদের গান্টার শিকল পরিমাপ |
গড় পদ্ধতির মারাত্মক ভুল বনাম সঠিক ত্রিকোণমিতিক পরিমাপ
বাংলাদেশে জমি নিয়ে মামলা ও বিরোধের সবচেয়ে বড় কারণ হলো সাধারণ গড় পদ্ধতিতে জমি মাপা। অনেক আমিন বা মধ্যস্বত্বভোগী চার কোনা জমি মাপতে গিয়ে (উত্তর + দক্ষিণ) ÷ ২ এবং (পূর্ব + পশ্চিম) ÷ ২ করে দুটি গড় বাহু গুণ করে দেন।
কেন এটি ভুল? জ্যামিতির নিয়ম অনুযায়ী, চতুর্ভুজের কোণগুলো যদি ঠিক ৯০ ডিগ্রি (সমকোণ) না হয়, তবে গড় পদ্ধতিতে জমি পরিমাপ করলে প্রকৃত ক্ষেত্রফলের চেয়ে ২ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত জমি বেশি প্রদর্শিত হয়! এতে বিক্রেতা লাভবান হলেও ক্রেতা টাকা দিয়ে জমি কম বুঝে পান।
সঠিক সমাধান: জমি যদি পুরোপুরি আয়তাকার না হয়, তবে জমিতে একটি কর্ণ মেপে জমিটিকে দুটি ত্রিভুজে ভাগ করতে হবে। এরপর আমাদের অনিয়মিত চতুর্ভুজ ক্যালকুলেটর অথবা ত্রিভুজ জমি ক্যালকুলেটর দিয়ে হেরন সূত্র প্রয়োগ করে শতভাগ নিখুঁত ফলাফল বের করতে হবে।
দলিল বনাম খতিয়ানের গরমিল দেখা দিলে করণীয়
অনেক সময় দেখা যায় ক্রয় সূত্রে দলিলের পরিমাণ ৫ শতাংশ, কিন্তু অনলাইনে আরএস বা বিএস খতিয়ানে জমি দেখা যাচ্ছে ৪.৫০ শতাংশ। ০.৫০ শতাংশের এই পার্থক্যের কারণে এসি ল্যান্ড অফিসে ই-নামজারি নামঞ্জুর বা বাতিল হতে পারে।
যদি এ ধরনের গরমিল দেখা দেয়, তবে প্রথম কাজ হলো মূল খতিয়ানের ১৬ আনার হিস্যা পুনরায় পরীক্ষা করা। পূর্ববর্তী সিএস বা এসএ খতিয়ানের মোট জমি ও বায়া দলিলের চেইন মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজন হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর মিস কেস দায়ের অথবা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে (বা দেওয়ানি আদালতে) খতিয়ান সংশোধনের আবেদন করতে হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের নামজারি বাতিলের কারণ ও প্রতিকার নির্দেশিকা পড়ুন।