অনলাইনে খতিয়ান ও ই-পর্চা দেখার সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

📅 সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে জমি কেনাবেচা, নামজারি আবেদন, খাজনা পরিশোধ কিংবা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র হলো খতিয়ান (Record of Rights — R.O.R)। ব্রিটিশ আমলের সিএস জরিপ থেকে শুরু করে হাল আমলের বিএস বা সিটি জরিপ পর্যন্ত যেকোনো খতিয়ান এখন ঘরে বসেই অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব। নিচে খতিয়ান অনুসন্ধানের ধাপে ধাপে নিয়ম, ৪টি প্রধান খতিয়ানের পূর্ণাঙ্গ আইনি পার্থক্য এবং সার্টিফাইড কপি তোলার বিস্তারিত নিয়ম তুলে ধরা হলো।

🔍

অনলাইনে এখনই খতিয়ান দেখতে চান?

আমাদের ফ্রি পোর্টালে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করে মুহূর্তেই আপনার কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান ও দাগ নম্বর খুঁজে বের করুন।

খতিয়ান কী এবং কেন এটি দলিলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ?

খতিয়ান হলো সরকারের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক সরেজমিনে তদন্ত ও পরিমাপের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত একটি সরকারি দলিল বা স্বত্বলিপি। এতে নির্দিষ্ট একটি মৌজার দাগে কোন ব্যক্তির কতটুকু জমি রয়েছে, তার জমির দখল কার অধীনে, জমিটির ব্যবহারের ধরন (নাল, ভিটি, বাড়ি, পুকুর ইত্যাদি) এবং সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব কত—তা আইনসম্মতভাবে লিপিবদ্ধ থাকে।

দলিল বনাম খতিয়ান: মূল পার্থক্যটি বুঝুন

• দলিল (Deed): জমি কেনাবেচা বা হস্তান্তরের একটি চুক্তিপত্র। দলিল কেবল প্রমাণ করে যে অমুক ব্যক্তি অমুকের কাছে জমি হস্তান্তর করেছেন। কিন্তু ওই দলিলের জমি বাস্তবে সরকারি খাতায় বিক্রেতার নামে রেকর্ড ছিল কি না, তা দলিল প্রমাণ করতে পারে না।
• খতিয়ান (Khatian): সরকারের অফিশিয়াল নথিতে জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলদারিত্বের আইনগত প্রমাণ। খতিয়ানে নাম না থাকলে কেবল দলিলের ওপর ভিত্তি করে জমির নিরঙ্কুশ মালিক হওয়া যায় না।

সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস খতিয়ানের পূর্ণাঙ্গ আইনি পার্থক্য ও ইতিহাস

বাংলাদেশে এ যাবৎকালে পরিচালিত বিভিন্ন ভূমি জরিপের প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে খতিয়ান মূলত ৪টি প্রধান ভাগে বিভক্ত। জমি কেনাবেচা বা ওয়ারিশ বণ্টনে প্রতিটি খতিয়ানের গুরুত্ব অপরিসীম:

১. সিএস খতিয়ান (Cadastral Survey — ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০)

মূল বা শিকড় খতিয়ান

১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন (Bengal Tenancy Act) অনুসারে ব্রিটিশ সরকারের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম বিজ্ঞানসম্মত কিস্তোয়ারি জরিপের মাধ্যমে সিএস খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় (১৮৮৮ সালে কক্সবাজারের রামু থেকে জরিপ শুরু হয়)। এটি মূলত দুই পৃষ্ঠার হয়। প্রথম পৃষ্ঠায় জমিদার ও মধ্যস্বত্বাধিকারীর নাম থাকে এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় প্রকৃত প্রজা বা রায়তের নাম ও ১৬ আনা হিস্যা উল্লেখ থাকে। আইন অনুযায়ী সিএস খতিয়ানকে "মাদার রেকর্ড" বা মূল ভিত্তি গণ্য করা হয়।

২. এসএ খতিয়ান (State Acquisition Survey — ১৯৫৬ থেকে ১৯৬২)

জমিদারি উচ্ছেদ জরিপ

১৯৫০ সালের 'পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন' (SAT Act) পাসের পর সরকার জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে প্রজাদের সরাসরি সরকারের প্রজায় পরিণত করে। এই আইনে জমিদারদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ করার জন্য ১৯৫৬ সালে মাঠে কোনো নতুন নকশা বা ফিতা দিয়ে পরিমাপ না করেই সিএস রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তড়িঘড়ি এসএ রেকর্ড তৈরি করা হয়। তাই একে "খসড়া খতিয়ান" বা "তাবেদারি খতিয়ান"ও বলা হয়। তাড়াহুড়ার কারণে এতে প্রচুর ভুলভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল। এটি এক পৃষ্ঠার লালচে কাগজের খতিয়ান।

৩. আরএস খতিয়ান (Revisional Survey — ১৯৬৬ থেকে ১৯৯০)

আদালতে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য

এসএ খতিয়ানের মারাত্মক ভুলভ্রান্তি দূর করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৬৬ সাল থেকে সরেজমিনে ফিতা ও গান্টার চেইন নিয়ে মাঠপর্যায়ে নতুন কিস্তোয়ারের মাধ্যমে আরএস জরিপ পরিচালনা করে। আরএস খতিয়ানে পূর্ববর্তী সাবেক দাগ এবং হাল দাগ উভয়ই উল্লেখ থাকে। আদালতের মামলা মোকদ্দমা এবং জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আরএস খতিয়ান সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত।

৪. বিএস / বিআরএস / সিটি জরিপ (১৯৯৮ থেকে বর্তমান)

সর্বশেষ আধুনিক জরিপ

বাংলাদেশ সার্ভে (BS), যা বিভিন্ন জেলায় বিআরএস (BRS) এবং রাজধানী ঢাকা এলাকায় 'সিটি জরিপ' নামে পরিচিত। ১৯৯৮-৯৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই জরিপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে পুরোনো আনা-গণ্ডা-কড়া-ক্রান্তির জটিল সাংকেতিক চিহ্ন বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক ৪ অঙ্কের দশমিক পদ্ধতি (যেমন ০.২৫০০ অংশ) প্রবর্তন করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বিএস চূড়ান্তভাবে গেজেটভুক্ত হয়েছে, সেখানে বিএস খতিয়ানই বর্তমানে কার্যকর ও সরকারি নামজারির ভিত্তি।

চারটি খতিয়ানের পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক চার্ট

জরিপের নাম সময়কাল আইনি ভিত্তি গঠন ও পৃষ্ঠা হিস্যার ধরণ আদালতে আইনি মূল্য
সিএস (CS) ১৮৮৮ – ১৯৪০ বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যাক্ট ১৮৮৫ ২ পৃষ্ঠার ফর্ম (জমিদার ও প্রজা আলাদা) ১৬ আনা সাংকেতিক চিহ্ন মালিকানার আদি শিকড় প্রমাণের মূল দলিল।
এসএ (SA) ১৯৫৬ – ১৯৬২ রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ আইন ১৯৫০ ১ পৃষ্ঠার লালচে ফর্ম (সরাসরি প্রজা) ১৬ আনা সাংকেতিক চিহ্ন জমিদারি বিলুপ্তির প্রমাণ, তবে ভুলত্রুটির সম্ভাবনা বেশি।
আরএস (RS) ১৯৬৬ – ১৯৯০ সরেজমিন সংশোধন জরিপ উন্নত ফর্ম (সাবেক ও হাল দাগ অন্তর্ভুক্ত) ১৬ আনা সাংকেতিক চিহ্ন আইনি বিরোধ ও দেওয়ানি মামলায় সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্য।
বিএস (BS) / সিটি ১৯৯৮ – বর্তমান বাংলাদেশ ভূমি জরিপ অধ্যাদেশ আধুনিক কম্পিউটারাইজড রেকর্ড দশমিক অংশ (৪ অঙ্ক বিশিষ্ট) বর্তমানে কার্যকর ও হালনাগাদ সরকারি মালিকানার ভিত্তি।
আইনি নীতি: জমিসংক্রান্ত কোনো বিরোধে দেওয়ানি আদালত ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সর্বশেষ গেজেটভুক্ত খতিয়ান (যেমন আরএস বা বিএস) প্রাথমিক সত্য বলে গণ্য হয়। তবে জমি কেনার সময় সিএস থেকে শুরু করে সর্বশেষ বিএস পর্যন্ত বায়া দলিলের মাধ্যমে মালিকানার ধারাবাহিক যোগসূত্র (Chain of Title) মিলিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে অনলাইনে খতিয়ান খোঁজার স্টেপ-বাই-স্টেপ নিয়ম

ঘরে বসে মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ডাটাবেজ থেকে খতিয়ান অনুসন্ধান করার সহজ ৫টি ধাপ নিচে দেওয়া হলো:

৫

ধাপ ৫: অনলাইন কপি ভিউ ও সার্টিফাইড কপি আবেদন

খতিয়ান তালিকার নম্বরে ক্লিক বা ডাবল ক্লিক করলে খতিয়ানের অনলাইন কপি প্রদর্শিত হবে, যা আপনি সরাসরি প্রিন্ট করতে পারবেন। আর অফিশিয়াল সিলযুক্ত কপির প্রয়োজন হলে ১০০ টাকা ফি দিয়ে ডিসি অফিস বা ডাকযোগে সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করা যায়।

খতিয়ান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ক্যালকুলেটর ও রূপান্তর টুলস

খতিয়ানের একর, আনা-গণ্ডা হিস্যা কিংবা জমির গরমিল নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করার অনলাইন টুলসমূহ:

ই-পর্চা সার্টিফাইড কপি আবেদন ও ডাকযোগে পাওয়ার নিয়ম

📜 ডিসি অফিসের সিলযুক্ত মূল অনুলিপি

আদালতে দেওয়ানি মামলা প্রমাণ, ব্যাংকে মর্গেজ বা লোন গ্রহণ, জমি সাব-রেজিস্ট্রি এবং মিউটেশন আবেদন করার ক্ষেত্রে খতিয়ানের অনলাইন ফটোকপি যথেষ্ট নয়। এসব আইনি ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের মহাফেজখানা (DC Office Record Room) কর্তৃক অনুমোদিত সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত 'সার্টিফাইড কপি' (Certified Copy) বাধ্যতামূলক। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ই-পর্চা পোর্টাল (eporcha.gov.bd) থেকে নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে সার্টিফাইড কপির আবেদন করে সরাসরি ডাকযোগে বা ডিসি অফিস কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।

সার্টিফাইড কপির সরকারি খরচের পূর্ণাঙ্গ চার্ট

বিতরণ মাধ্যম সরকারি কোর্ট ফি ডাক মাশুল সর্বমোট খরচ প্রত্যাশিত সময়সীমা
জেলা রেকর্ডরুম কাউন্টার থেকে গ্রহণ ১০০ টাকা ০ টাকা ১০০ টাকা ১ থেকে ৩ কার্যদিবস
ডাকযোগে হোম ডেলিভারি (পোস্ট অফিস) ১০০ টাকা ৪০ টাকা ১৪০ টাকা ৩ থেকে ৫ কার্যদিবস

অনলাইনে সার্টিফাইড কপি আবেদনের স্টেপ-বাই-স্টেপ প্রক্রিয়া

১. খতিয়ান নির্বাচন ও 'আবেদন করুন' ক্লিক:

জাতীয় ই-পর্চা পোর্টালে (eporcha.gov.bd) গিয়ে আপনার বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা ও খতিয়ান নম্বর নির্বাচন করে ফলাফল বের করুন। এরপর খতিয়ানের তালিকার পাশে থাকা 'আবেদন করুন' বাটনে ক্লিক করুন।

২. আবেদনের ধরন নির্ধারণ (অনলাইন কপি বনাম সার্টিফাইড কপি):

ফর্মের উপরে 'সার্টিফাইড কপি' রেডিও অপশনটি নির্বাচন করুন (যদি শুধু দ্রুত দেখতে চান তবে 'অনলাইন কপি' সিলেক্ট করতে পারেন)।

৩. ডেলিভারি মাধ্যম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা:

ডেলিভারির ধরন হিসেবে 'ডাকযোগে' নির্বাচন করুন। এরপর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর, জন্ম তারিখ এবং মোবাইল নম্বর প্রদান করে যাচাই করুন। এরপর খতিয়ানটি যে ঠিকানায় পৌঁছাবে তার সুনির্দিষ্ট পোস্টকোডসহ ঠিকানা লিখুন।

৪. ১৪০ টাকা অনলাইন ফি পরিশোধ ও ট্র্যাকিং রসিদ:

বিকাশ, নগদ, রকেট বা ভিসা/মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে মোট ১৪০ টাকা পরিশোধ করুন। পেমেন্ট সফল হলে স্ক্রিনে একটি চালান/আবেদন নম্বর এবং ডাক বিভাগের পোস্টাল ট্র্যাকিং নম্বর সহ একটি ডিজিটাল রসিদ আসবে, যা ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে রাখুন। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের রানার আপনার ঠিকানায় সরাসরি সার্টিফাইড সিলযুক্ত কপি পৌঁছে দেবে।

আরএস ও এসএ খতিয়ান বিশেষ পরিচিতি ও অনলাইন যাচাই গাইড

📌 আরএস খতিয়ান (Revisional Survey) কী ও কীভাবে অনলাইনে দেখবেন?

সরেজমিন নির্ভুল জরিপ

এসএ জরিপে যে ব্যাপক ভুলত্রুটি ও তড়িঘড়ি তৈরি হয়েছিল, তা সংশোধন করার উদ্দেশ্যে ১৯৬৬ সাল থেকে সরকার সরেজমিনে গান্টার চেইন নিয়ে কিস্তোয়ারের মাধ্যমে রিভিশনাল সার্ভে (RS) পরিচালনা করে। জমি কেনাবেচা, নামজারি অনুমোদন এবং দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব প্রমাণের জন্য আরএস খতিয়ানকে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অনলাইনে আরএস খতিয়ান অনুসন্ধানের বিশেষ কৌশল:
  • ভূমি সেবা পোর্টালে (eporcha.gov.bd) গিয়ে জরিপের ধরনে RS (আরএস) সিলেক্ট করুন।
  • আরএস খতিয়ানে সাবেক দাগ (এসএ আমলের দাগ) এবং হাল দাগ (আরএস জরিপে সৃষ্ট নতুন দাগ) উভয়ই উল্লেখ থাকে। দলিলের সাথে মেলাতে হাল দাগ নম্বর দিয়ে খুঁজুন।
  • যদি দাগ নম্বর জানা না থাকে, তবে বিক্রেতার বাবার নাম বা মূল মালিকের নাম দিয়েও আরএস হিস্যা তালিকা থেকে কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান সহজে বের করা যায়।

📌 এসএ খতিয়ান (State Acquisition Survey) কী ও অনলাইনে পাওয়ার উপায়

১৯৫৬-১৯৬২ এর 'পাকিস্তান রেকর্ড'

১৯৫০ সালের 'স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট' (SAT Act)-এর মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে জমিদারদের থেকে প্রজাদের জমি সরাসরি রাষ্ট্রের অধীনে আনা হয়। জমিদারি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং সরকারি রেকর্ড প্রস্তুত করতে ১৯৫৬ থেকে ১৯৬২ সালের মধ্যে তড়িঘড়ি কোনো নকশা না করে সিএস রেকর্ডের ভিত্তিতেই এসএ খতিয়ান তৈরি করা হয়। একে আঞ্চলিক ভাষায় '৬২ এর রেকর্ড' বা 'পাকিস্তান রেকর্ড' বলা হয়।

এসএ খতিয়ানের আইনি ভূমিকা ও অনলাইন তল্লাশি:
  • মালিকানার ধারাবাহিকতা (Chain of Title): জমি রেজিস্ট্রির সময় সাব-রেজিস্ট্রার সিএস থেকে বর্তমান বিক্রেতা পর্যন্ত মালিকানা হস্তান্তরের যে ধারা পরীক্ষা করেন, সেখানে এসএ খতিয়ান একটি অপরিহার্য সেতুবন্ধন।
  • অনলাইনে ফ্রি যাচাই: eporcha.gov.bd-তে জরিপের ধরন হিসেবে SA (এসএ) নির্বাচন করে নির্দিষ্ট মৌজা ও দাগ নম্বরে তৎকালীন জমিদার ও প্রজাস্বত্ব মালিকের নাম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখা যায়।
  • ভুলত্রুটি সংশোধন: যেহেতু এসএ রেকর্ডে মাঠ পরিমাপ ছিল না, তাই কোনো অমিল দেখা দিলে পরবর্তী আরএস খতিয়ান ও সিএস খতিয়ানের সাথে সমন্বয় করে দেখতে হয়।

খতিয়ান ও ই-পর্চা সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১। খতিয়ান এবং পর্চার মধ্যে পার্থক্য কী?

খতিয়ান এবং পর্চা মূলত একই জিনিসের দুটি রূপ। ভূমি জরিপের সময় প্রস্তুতকৃত মূল রেকর্ড অফ রাইটসকে (R.O.R) সরকারি ভাষায় 'খতিয়ান' বলা হয়। আর জরিপ চলাকালে খতিয়ানের যে প্রাথমিক অনুলিপি বা খসড়া মালিককে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হয়, তাকে লোকমুখে 'পর্চা' বলা হয়। বর্তমানে অনলাইনে বা মহাফেজখানা থেকে সংগৃহীত খতিয়ানের কপিকেও সাধারণত ই-পর্চা বলা হয়ে থাকে।

২। অনলাইন খতিয়ানের কপি ও সার্টিফাইড কপির মধ্যে আইনি পার্থক্য কী?

অনলাইন থেকে সরাসরি দেখা বা প্রিন্ট করা খতিয়ানটি কেবল তথ্য যাচাই ও ব্যক্তিগত অবগতির জন্য প্রযোজ্য। তবে আদালত বা দেওয়ানি মোকদ্দমা, ব্যাংক ঋণ কিংবা জমি রেজিস্ট্রিতে ব্যবহারের জন্য ডিসি অফিসের সিল-স্বাক্ষরযুক্ত ১০০ টাকার কোর্ট ফি দিয়ে নেওয়া সার্টিফাইড কপি আবেদন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

৩। আদালত ও জমি রেজিস্ট্রিতে কোন খতিয়ানের আইনি মূল্য সবচেয়ে বেশি?

আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সর্বশেষ চূড়ান্ত প্রকাশিত গেজেটভুক্ত খতিয়ান (যেমন আরএস বা বিএস/সিটি জরিপ) বর্তমান মালিকানা প্রমাণের জন্য প্রাথমিক সত্য হিসেবে গণ্য হয়। তবে মালিকানার বৈধ ধারাবাহিকতা (Chain of Title) প্রমাণের জন্য মূল সিএস খতিয়ান থেকে শুরু করে এসএ, আরএস ও বিএস পর্যন্ত প্রতিটি রেকর্ডের মেলবন্ধন থাকা আবশ্যক।

৪। খতিয়ানে সাবেক দাগ এবং হাল দাগ বলতে কী বোঝায়?

'সাবেক দাগ' হলো পূর্ববর্তী জরিপের (যেমন সিএস বা এসএ) দাগ নম্বর। আর 'হাল দাগ' হলো সর্বশেষ চলমান জরিপের (যেমন আরএস বা বিএস) নতুন দাগ নম্বর। জমি হস্তান্তরের সময় বায়া দলিল মেলাতে সাবেক ও হাল দাগের সমন্বয় চেক করা অপরিহার্য।

৫। খতিয়ানে নাম বা দাগের ভুল থাকলে কীভাবে সংশোধন করবেন?

খতিয়ানে কোনো সাধারণ মুদ্রণ প্রমাদ থাকলে তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর মিস কেস দায়েরের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়। বিস্তারিত দেখুন আমাদের নামজারি ও মিসকেস নির্দেশিকা। তবে খতিয়ানে স্বত্ব বা দাগ সংক্রান্ত গুরুতর ভুল থাকলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল বা সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়। প্রাসঙ্গিক আইন দেখতে ভূমি আইন ও বিধিমালা পড়ুন।

সম্পর্কিত অন্যান্য ভূমি সেবা ও প্রয়োজনীয় ক্যালকুলেটর

📝 ই-নামজারি ও মিউটেশন সম্পূর্ণ গাইড অনলাইনে নামজারি আবেদন করার নিয়ম, ১,১৭০ টাকা ফি ও নিষ্পত্তির সময়সীমা। 💳 ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ ঘরে বসে ldtax পোর্টালে খাজনা দেওয়া ও কিউআর কোডযুক্ত দাখিলা ডাউনলোড। 🗺️ মৌজা ম্যাপ ও দাগ নম্বর অনলাইনে মৌজা ম্যাপ ডাউনলোড এবং দাগ নম্বর দিয়ে জমির সীমানা বের করা। 🧮 খতিয়ানের আনা গণ্ডা হিসাব সিএস/এসএ খতিয়ানের ১৬ আনার হিস্যা থেকে ওয়ারিশদের প্রাপ্যাংশ বের করার টুল। 📐 জমি পরিমাপ ক্যালকুলেটর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ দিয়ে জমির সঠিক শতাংশ, কাঠা, বিঘা ও দলিল গরমিল পরীক্ষা। ⚖️ ভূমি আইন ও বিধিমালা ভূমি মন্ত্রণালয় প্রণীত রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ আইন ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের পিডিএফ।