বিঘা থেকে কাঠা ও শতাংশ রূপান্তর ক্যালকুলেটর
বিঘার পরিমাণ লিখুন। ক্যালকুলেটরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি স্ট্যান্ডার্ড কাঠা (২০ কাঠা = ১ বিঘা) এবং সমতুল্য শতাংশে রূপান্তর করে দেবে।
* সরকারি স্ট্যান্ডার্ড সূত্র: ১ বিঘা = ২০ কাঠা = ৩৩.০৬ শতাংশ (ডেসিমেল) = ১৪,৪০০ বর্গফুট।
১ বিঘায় কত কাঠা ও কত শতাংশ? বিঘা পরিমাপের সরকারি নিয়ম
বাংলাদেশে কৃষি জমি পরিমাপ এবং গ্রামীণ সম্পত্তি বণ্টনে বিঘা (Bigha) অন্যতম বহুল ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী একক। তবে আধুনিক সরকারি খতিয়ান (যেমন বিএস বা সিটি জরিপ) এবং ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিসে জমির হিসাব সর্বদা একর ও শতাংশে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে গ্রামীণ ক্রয়-বিক্রয় এবং দলিলের সরকারি রেকর্ডের মধ্যে সমন্বয় করতে বিঘা থেকে কাঠা ও শতাংশের সম্পর্ক বোঝা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং রাজস্ব আইন অনুযায়ী, ১ সরকারি প্রমিত বিঘা সমান ২০ কাঠা। প্রতি কাঠা ৭২০ বর্গফুট হওয়ায় এক বিঘায় মোট ক্ষেত্রফল হয় ২০ × ৭২০ = ১৪,৪০০ বর্গফুট। এই ১৪,৪০০ বর্গফুটকে এক শতাংশের মান (৪৩৫.৬) দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ৩৩.০৫৭ বা প্রায় ৩৩.০৬ শতাংশ।
• ১ বিঘা (স্ট্যান্ডার্ড) =
২০ কাঠা• ১ বিঘা =
৩৩.০৬ শতাংশ (বা শতক / ডেসিমেল)• ১ বিঘা =
১৪,৪০০ বর্গফুট (Sq Ft)• ১ বিঘা =
১,৬০০ বর্গগজ (Sq Yards)• ১ একর =
৩ বিঘা ৮ ছটাক (অর্থাৎ ৩.০২৫ বিঘা = ১০০ শতাংশ)
বিঘা, কাঠা, শতাংশ ও বর্গফুটের সমন্বিত রূপান্তর তালিকা
জমি পরিমাপের সুবিধার জন্য প্রমিত বিঘার সাথে অন্যান্য এককের তুলনা ছক নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| বিঘা | কাঠা | শতাংশ (ডেসিমেল) | বর্গফুট (Sq Ft) | একরের ভগ্নাংশ |
|---|---|---|---|---|
| ০.২৫ বিঘা (৫ কাঠা) | ৫ কাঠা | ৮.২৬ শতাংশ | ৩,৬০০ বর্গফুট | ০.০৮ একর |
| ০.৫০ বিঘা (১০ কাঠা) | ১০ কাঠা | ১৬.৫৩ শতাংশ | ৭,২০০ বর্গফুট | ০.১৬ একর |
| ১.০০ বিঘা | ২০ কাঠা | ৩৩.০৬ শতাংশ | ১৪,৪০০ বর্গফুট | ০.৩৩ একর |
| ১.৫০ বিঘা | ৩০ কাঠা | ৪৯.৫৯ শতাংশ | ২১,৬০০ বর্গফুট | ০.৫০ একর |
| ২.০০ বিঘা | ৪০ কাঠা | ৬৬.১২ শতাংশ | ২৮,৮০০ বর্গফুট | ০.৬৬ একর |
| ৩.০২৫ বিঘা (১ একর) | ৬০.৫ কাঠা | ১০০.০০ শতাংশ | ৪৩,৫৬০ বর্গফুট | ১.০০ একর |
| ৫.০০ বিঘা | ১০০ কাঠা | ১৬৫.২৯ শতাংশ | ৭২,০০০ বর্গফুট | ১.৬৫ একর |
| ১০.০০ বিঘা | ২০০ কাঠা | ৩৩০.৫৭ শতাংশ | ১,৪৪,০০০ বর্গফুট | ৩.৩১ একর |
| ২৫.০০ বিঘা (কর মওকুফ সীমা) | ৫০০ কাঠা | ৮২৬.৪৪ শতাংশ (~৮.২৭ একর) | ৩,৬০,০০০ বর্গফুট | ৮.২৭ একর |
আঞ্চলিক বিঘা বনাম সরকারি বিঘা: পাখি ও কানির বিভ্রান্তি
বাংলাদেশে জমি পরিমাপে সবচেয়ে বড় ভুল ঘটে আঞ্চলিক বিঘার ভিন্নতার কারণে। সরকারিভাবে ৩৩ শতাংশে ১ বিঘা হলেও অনেক জেলায় স্থানীয় প্রথা চালু রয়েছে:
- উত্তরাঞ্চল ও পাখি প্রথা: বগুড়া, নওগাঁ, পাবনা ও কুষ্টিয়ার কিছু অঞ্চলে ১ পাখিকে বিঘা বলা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ২৪ কাঠা বা প্রায় ১৬,০০০ থেকে ১৮,০০০ বর্গফুট পর্যন্ত হতে পারে। আবার কোনো অঞ্চলে ১৪ কাঠায় পাখি গণ্য হয়।
- বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল: সিলেটে বিঘা বা কাঠার পরিবর্তে ১ কেদার বা কানি হিসাব হয়। ১ কেদারে সাধারণত ৩০ শতাংশ বা স্থানীয় পরিমাপ ব্যবহৃত হয়।
- চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় এলাকা: সেখানে কানি-গণ্ডা হিসাব প্রযোজ্য। ১ কানি সমান প্রায় ১২০ শতাংশ বা ১৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
সতর্কতা: আঞ্চলিক মাপে জমি বায়না করলেও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারিতে সর্বদা সরকারি প্রমিত ৩৩.০৬ শতাংশের বিঘা ও ডেসিমেল গ্রাহ্য করা হয়।
ভূমি উন্নয়ন কর আইনে ২৫ বিঘা মওকুফের গুরুত্ব
বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান ভূমি উন্নয়ন কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবারের মোট কৃষি জমির পরিমাণ যদি ২৫ বিঘা (অর্থাৎ ৮২৫ শতাংশ বা ৮.২৫ একর) এর মধ্যে থাকে, তবে উক্ত কৃষি জমির জন্য কোনো মূল ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দিতে হয় না (শুধুমাত্র বার্ষিক নামমাত্র অনলাইন সার্ভিস চার্জ বা দাখিলা নবায়ন ফি প্রযোজ্য হতে পারে)। তবে জমি ২৫ বিঘা অতিক্রম করলে সমস্ত জমির জন্য সরকার নির্ধারিত হারে কর ধার্য হয়। আপনার মোট জমির খাজনা হিসাব করতে আমাদের ভূমি উন্নয়ন কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।